রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। অভিযানে প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় এবং এক জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
সোমবার দিনব্যাপী পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচালিত অভিযানে এই জাল উদ্ধার করা হয়। আটক জেলের নাম মাসুদ প্রামাণিক। তিনি দৌলতদিয়ার সিদ্দিক কাজীরপাড়া এলাকার মো. শহীদ প্রামাণিকের ছেলে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পদ্মা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় জাল ফেলে মাছ ধরার সময় মাসুদ প্রামাণিককে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে এবং নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন,
“কারেন্ট জাল শুধু ছোট মাছ নয়, নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। এসব জালের কারণে মা মাছ ও পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। নদীর পরিবেশ রক্ষায় নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের একাংশ জানান, অসাধু কিছু জেলের কারণে নদীতে মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই টেকসই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি।