ময়মনসিংহে বিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম আরও কার্যকর ও শিক্ষাবান্ধব করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নেটওয়ার্কিং সভা ও সংলাপ। সুবিধাবঞ্চিত, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধ, উপবৃত্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ সভায় অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) নগরীর অয়নিকা ভবনের ফোরাম হল রুমে এ সভার আয়োজন করে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার। এতে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সি.এস.আই, লুক্সেমবার্গ।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক সমস্যা, সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার কারণে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় বিদ্যালয়ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থী শনাক্তকরণ, শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উপবৃত্তি কার্যক্রমের জবাবদিহিতা এবং পরামর্শমূলক সহায়তা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ তৈরির ওপরও জোর দেন বক্তারা। সভায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি সদস্যরা মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কার্যকর সমাধানের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাজন বিন। সঞ্চালনা করেন কো-অর্ডিনেটর (ফরমাল এডুকেশন) মো. বিল্লাল হক শিকদার (রনি)।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা তাহমিনা নাসরিন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুবি খান, হাসপাতাল সমাজসেবা প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জহুরা, প্রতিজ্ঞা যুব সংগঠনের মো. মামুন মিয়া, বিএনএসবির ইনস্পেক্টর দিজু সূত্রধরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, এসএমসি সদস্য ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম শুধু সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সেবার মানোন্নয়ন, সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
আয়োজকরা জানান, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী যাতে সহজে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সে লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সুরক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।