“সেতু জনগণের, টোল কেন?”- এমন স্লোগানে মুখর হয়ে উঠল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকা। মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর দীর্ঘদিনের টোল আদায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ৩৩ বছর ধরে চলমান টোল আদায় বন্ধ করে সেতুটিকে অবিলম্বে টোলমুক্ত ঘোষণার দাবিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক অধিকার আদায় কমিটি।
ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শত শত অটোরিকশা, মাহেন্দ্রা ও ছোট যানবাহনের সারিতে পুরো এলাকা রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। “টোলের নামে জনগণের পকেট কাটা বন্ধ কর”, “৩৩ বছরের শোষণের অবসান চাই”, “বীরশ্রেষ্ঠের নামে সেতু, জনগণের জন্য উন্মুক্ত কর”— এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রাণের সেতু। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে এ সেতু ব্যবহার করেন। অথচ নির্মাণ ব্যয় বহু আগেই উঠে যাওয়ার পরও এখনো টোল আদায় অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে চরম বৈষম্য ও অন্যায়ের শামিল।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম মোল্লা, শাহনেয়ামতুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম সিদ্দিকী নয়ন, ব্যবসায়ী নেতা রাইহানুল ইসলাম লুনা এবং অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী আসাদ।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু সেতু ইতোমধ্যে টোলমুক্ত করা হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী এখনও বৈষম্যের শিকার। তারা অভিযোগ করেন, জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। তার ওপর প্রতিদিনের টোলের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
নাগরিক অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বহু আগেই উঠে গেছে। এরপরও বছরের পর বছর জনগণের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এটি আর কোনো উন্নয়ন নয়, এটি এখন জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে টোল আদায় বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম সিদ্দিকী নয়ন বলেন, “বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে নির্মিত একটি সেতুতে সাধারণ মানুষের চলাচলে টোলের বাধা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি জেলার মানুষের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।”
ব্যবসায়ী রাইহানুল ইসলাম লুনা বলেন, “প্রতিদিন ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে টোল দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে টোল আদায় বন্ধ করে সেতুটিকে টোলমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সড়ক অবরোধ, গণঅবস্থান ও লাগাতার কর্মসূচির মতো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
উল্লেখ্য, মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি চালুর পর তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো টোল আদায় অব্যাহত থাকায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত