মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৩১ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় পাঁচগুণ বেশি রোগী। শয্যা সংকট এতটাই তীব্র যে অনেক রোগীকে বারান্দা, করিডোর এমনকি মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালের রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ মে) পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ, ৬৮ জন নারী এবং ৩৬ জন শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, করিডোর ও বারান্দা রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়া, বমি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, পেটব্যথা ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা তীব্র গরমের মধ্যে মানবেতর অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বারান্দায় পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে চাদর বিছিয়ে স্যালাইন নিতে দেখা গেছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের অবস্থা ছিল আরও করুণ।
শুধু শয্যা সংকটই নয়, হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবস্থাও রোগীর তুলনায় অপ্রতুল। ফলে টয়লেট ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল ভবন ৫০ শয্যার উপযোগী হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি কার্যত ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো ও সীমিত সরঞ্জাম নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কম থাকায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। একাধিক রোগী সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। ফলে রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন রোগীদের জন্য জায়গা বের করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সীমিত সক্ষমতা নিয়েও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যায় উন্নীত করা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ জরুরি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এবং রোগীদের জন্য মানবিক চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।