
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমানকে এক নারীসহ একটি বাসা থেকে আটক করার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার জে এম টাওয়ার সংলগ্ন একটি বাসা থেকে স্থানীয়দের হাতে আটকের পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।
ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায় কারণ এর কয়েকদিন আগেই চাকসুর উদ্যোগে পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্যান্টিনে চালু হওয়া ‘ছাত্রী কর্নার’ বা ‘পর্দা কর্নার’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছিলেন সাকিফ রহমান। সেই পোস্ট ঘিরে শিক্ষার্থীদের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক চলমান থাকতেই শনিবার রাতের এই ঘটনা সামনে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১২টার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি একটি বাসায় সাকিফ রহমান ও তার বান্ধবীকে দেখতে পেয়ে আপত্তিকর অবস্থার অভিযোগ তুলে তাদের আটক করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পাস এলাকায় নিয়ে আসেন।
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন সাকিফ রহমান। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এক ছাত্রীর নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে আব্দুল্লাহ আল মামুন ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, তিনি ঘটনার দিন চট্টগ্রামে ছিলেন না; বরং শুক্রবার থেকেই সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, যে ছাত্রীর নাম জড়িয়ে পোস্ট করা হয়, তিনি কয়েক মাস আগে শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিফ রহমান বলেন, তার বান্ধবী গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভোর ৬টার বাসের টিকিট কেটেছিলেন। রাতের বেলায় কয়েকজন বন্ধু মিলে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা ছিল। পরে পরিস্থিতির কারণে তারা ২ নম্বর গেট দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, “আমি শুধু ব্যাগ নেওয়ার জন্য রুমে গিয়েছিলাম। ওই সময় বান্ধবীকে নিচে একা রেখে যাওয়া নিরাপদ মনে হয়নি। তাই তাকে রুমে নিয়ে আসি। আমি দ্রুত গোসল করে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কিছু লোক দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। আমরা কোনো আপত্তিকর অবস্থায় ছিলাম না।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ক্যাম্পাস এলাকায় নিয়ে আসি। পরে তাদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ‘পর্দা কর্নার’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই এমন ঘটনায় জড়ানোয় অনেক শিক্ষার্থী এটিকে ‘নৈতিক দ্বিচারিতা’র উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 
























