ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিবগঞ্জ

নয়নী হত্যাকাণ্ডে ৭ দিন পর মামলা, নোমান গ্রেপ্তার

মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নং আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গৃহকর্মী নয়নী খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও সাত দিন পর দায়ের হওয়া মামলায় উঠে এসেছে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আর বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান।

সোমবার (৮ জুন) রাতে শিবগঞ্জ থানায় নিহত নয়নীর আত্মীয়া আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার নোমান উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা রইসউদ্দিনের নাতি ও সুমনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নয়নী খাতুন দীর্ঘদিন ধরে রইসউদ্দিনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। কর্মস্থলে থাকাকালীন সময়েই নোমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে নয়নীর ওপর বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুন বিকেলে নয়নীকে হত্যা করার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর তার মরদেহ বাড়ির দোতলার একটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। পরে মরদেহ নামিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার দিন রাত প্রায় ১১টার দিকে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার গ্রামের বাড়ি দূর্লভপুর ইউনিয়নের শেরপুর ভান্ডার-বিজিপাড়া এলাকায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল। অনেকেই এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন,”নয়নী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় মোট আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়নী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শিবগঞ্জের কানসাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত এক নারীর মৃত্যু এবং পরে হত্যার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

বর্তমানে মামলাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ আশা করছে, দ্রুতই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জ

নয়নী হত্যাকাণ্ডে ৭ দিন পর মামলা, নোমান গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গৃহকর্মী নয়নী খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও সাত দিন পর দায়ের হওয়া মামলায় উঠে এসেছে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আর বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান।

সোমবার (৮ জুন) রাতে শিবগঞ্জ থানায় নিহত নয়নীর আত্মীয়া আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার নোমান উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা রইসউদ্দিনের নাতি ও সুমনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নয়নী খাতুন দীর্ঘদিন ধরে রইসউদ্দিনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। কর্মস্থলে থাকাকালীন সময়েই নোমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে নয়নীর ওপর বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুন বিকেলে নয়নীকে হত্যা করার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর তার মরদেহ বাড়ির দোতলার একটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। পরে মরদেহ নামিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার দিন রাত প্রায় ১১টার দিকে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার গ্রামের বাড়ি দূর্লভপুর ইউনিয়নের শেরপুর ভান্ডার-বিজিপাড়া এলাকায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল। অনেকেই এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন,”নয়নী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় মোট আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়নী খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শিবগঞ্জের কানসাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত এক নারীর মৃত্যু এবং পরে হত্যার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

বর্তমানে মামলাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ আশা করছে, দ্রুতই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।