চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার আন্দিপুর মৌজার আরএস থতিয়ান নং-১২২ ও ১২৩, দাগ নং ৫৯৩,৫৯৪,৫৯৫,৫৯৬,৫৯৭,৫৯৮,৫৯৯,৬০০,৬০১ এর অন্তর্গত প্রায় ২.৯৭ একর জমির ওপর থাকা একটি আমবাগানে প্রবেশ, আম বিক্রি, গাছ কাটা ও বিক্রিসহ সকল ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বিজ্ঞ ভোলাহাট সিভিল জজ আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ তৌহিদুজ্জামান। মামলার নম্বর ৪৬/২০২৩ (অঃপ্রঃ)।
মামলার নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে বাদী মোসা. তাজেমা বেগম দিং-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন।
আদেশে বিবাদী ১। মোঃ ইবাল, ২। মোঃ এমদাদুল হক, ৩। মোঃ এনামুল হক, ৪। মোঃ সেনারুল, ৫। মোঃ জাহাঙ্গীর, ৬। মোঃ মিন্টু, ৭। মোঃ কালু ও ৮। মোঃ নাদিম হোসেন—কে উক্ত তফসিল বর্ণিত আমবাগানে প্রবেশ, আম সংগ্রহ বা বিক্রি, বাগান হস্তান্তর, আম গাছ কাটা, ডাল-পালা কাটা কিংবা বেড়া নির্মাণসহ যেকোনো ধরনের দখল বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদী পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের উত্তেজনাকর বা ক্ষতিকর কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
নালিশী জমিতে আম বাগানের আম ফল পাড়া বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বিষয়ে বিবাদী নাহিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা আছে সেটা জানি। তবে আমি এমদাদুলের কাছে জমি খরিদ করেছি। জমি খরিদের পরে জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয় এবং মামলা চলমান। এমদাদুল কে আমি বলেছি ঝামেলার জমিতে আমি যাবো না । আমাকে টাকা ফেরৎ দিবেন। এমদাদুল আমাকে টাকা ফেরৎ দিতে চেয়েছে বলে জানান মামলার বিবাদী নাহিদ।
মামলার আরেক বিবাদী এমদাদুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আন্দিপুর মৌজার আরএস থতিয়ান নং-১২২ ও ১২৩, দাগ নং ৫৯৩,৫৯৪,৫৯৫,৫৯৬,৫৯৭,৫৯৮,৫৯৯,৬০০,৬০১ এর সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। এবং বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অত্র মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আম বাগানের কোন ক্ষতি, গাছ পালা কর্তন করা থেকে আমাদের কে বারিত করে ছে বিজ্ঞ আদালত বলে জানান মামলার বিবাদী এমদাদুল হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ তৌহিদুজ্জামান জানান, আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে বাগানটির আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই আমবাগানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে গড়ালে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এদিকে, আদালতের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ আদেশের ফলে আপাতত বাগানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত