রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবিতে জেলার বিভিন্ন হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে পবা উপজেলার তকিপুর এলাকায় অবস্থিত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, আলু বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। রাজশাহী অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হিমাগার ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের আগে বস্তাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হতো। সে সময় প্রতি বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। পরে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন একতরফাভাবে ভাড়া বাড়িয়ে প্রতি বস্তা ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার দাবি, ভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কৃষক, ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা লাভের পরিবর্তে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, “তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আমরা ধৈর্য ধরেছিলাম। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা গত ১৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করি। এরপর একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবি আদায়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) থেকে সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট হিমাগার থেকে আলু ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রেখেছে। ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সমিতির নেতারা জানান, রাজশাহী জেলায় বর্তমানে ৩৬টি হিমাগার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি হিমাগার থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার বস্তা আলু বাজারে সরবরাহ করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, কৃষক ও ভোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, আলু দেশের অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। হিমাগার থেকে সরবরাহ কমে গেলে বাজারে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের স্বার্থে হিমাগার ভাড়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের আলুবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে এবং এর প্রভাব সারাদেশের বাজার ব্যবস্থায়ও পড়তে পারে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যুৎ, শ্রমিক মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে মালিকপক্ষ দাবি করে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে আলু সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত