
রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে রিয়াজুল হাসান ও আল আমিন নামে দুইজনকে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) দিদারুল ইসলাম বাবুকে। এছাড়া মামলায় সংগঠনের আরও ২০ নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আনারকলি মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিল্লাল হোসেন ওই কার্যক্রমের বিরোধিতা করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালিশের কথা বলে বিল্লাল হোসেনকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। সেখানে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
ঘটনার পর মৌচাক ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাত ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 


















