চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পৃথক দুই সাঁড়াশি অভিযানে একটি ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবির) ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী এলাকায় প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন সংলগ্ন সড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন একটি বাংলাদেশি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে ট্রাকের ভেতরে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘Eskuf’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ট্রাকের চালক কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাসিন্দা মো. রিয়াদ হোসেন (২০)-কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মাদক বহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করা হয়। এ অভিযানে উদ্ধারকৃত সিরাপ ও ট্রাকসহ জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে বিজিবির আরেকটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় যুবক মো. নাঈম ইসলাম (১৮)-কে আটক করে তার কাছ থেকে ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, নাঈমের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের সিজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, পৃথক দুই অভিযানে জব্দ হওয়া ট্রাক, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতের সর্বমোট সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের জব্দকৃত আলামতসহ শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে মাদক পাচার রোধে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা অনেকাংশে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত