ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে আবারও ঘটল ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। গভীর রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে অন্তত চারজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের যৌথ তৎপরতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে হাস-পিঠা রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যমুনা লাইন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২১২৮) একটি যাত্রীবাহী বাস চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রাত ১২টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর গৌরনদী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনজন পুরুষ ও একজন নারীসহ মোট চারজন আহত হন। পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও উদ্ধার অভিযান শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সড়কের ধারণক্ষমতা বাড়েনি। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের চাপ ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা চিহ্ন স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। চালকের অসাবধানতা, অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা সড়কের অবস্থা—যে কারণই থাকুক না কেন, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত