ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন নতুন শিশু ভর্তি হচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও একটি শিশু মারা গেছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত এই হাসপাতালে হামসংক্রান্ত উপসর্গে মোট ৫৪টি শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ প্রাণ হারানো শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ৩ মাস ৫ দিন। গত ১৯ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসা চলার পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সন্তানকে এভাবে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন শোকের সাগরে ডুবে আছে। এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের বেদনার গল্প নয়, এটি হামের ভয়াবহতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশই কম বয়সী এবং তাদের একটি বড় অংশের টিকাদান সম্পন্ন হয়নি অথবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকা নিলে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সকল শিশুর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, শিশুদের যথাসময়ে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি শিশুর শরীরে জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ক্রমাগত বাড়তে থাকা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুতর সতর্কসংকেত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে হামের বিস্তার ও মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত