ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ভিডিও ধারণের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন ও কলা অনুষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণও জমা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেন, সকালে তিনি মিলনায়তনের সামনে তাঁর এক পরিচিত জুনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কলা অনুষদ ভবনের দিকে রওনা হলে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দাবি করেন যে তাঁদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরে ভিডিওটি মুছে ফেলা এবং বিষয়টি "গোপনে সমাধান" করার প্রস্তাব দিয়ে শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। অভিযোগে বলা হয়, এভাবেই ব্ল্যাকমেইল করে তাঁকে নির্জন স্থানে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে কলা অনুষদ ভবনের পঞ্চম তলায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের করিডোরের একটি অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আবারও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আরেকজনকে ফোনে ডাকার চেষ্টা করলে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে চলে যেতে চান ওই শিক্ষার্থী। তখন অভিযুক্ত তাঁর হাত শক্ত করে ধরে টান দেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি জোরে চিৎকার করলে আশপাশে লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে অভিযুক্ত দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ক্লাসে থাকা ভুক্তভোগীর সহপাঠী রায়হান বলেন,
"আমরা তখন শরিফুল ইসলাম স্যারের ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ তিনি আমাকে ফোন করে বাইরে আসতে বলেন। বাইরে এসে পুরো বিষয়টি জানতে পারি। এরপর আমরা দ্রুত বিভাগের শিক্ষকদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করি।"
ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থী তাহসিন শেখ বলেন,
"আমরা টিএসসির সামনে বসে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। সেখানে এমন কিছুই ঘটেনি, যার ভিত্তিতে কেউ ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। পুরো বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।"
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন,
"লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে। ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাকি বহিরাগত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত