রাজধানীর আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া।
আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে বাদশা মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে সাদ্দাম হোসেন এখনও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নবোদয় হাউজিং এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পক্ষে ছিলেন বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন ও বাদশা মিয়া, অন্য পক্ষে ছিলেন স্থানীয় রিপন, পারভেজসহ তাদের অনুসারীরা। এই ঘটনার জেরে বুধবার সন্ধ্যায় বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সালিশ শেষে সাদ্দাম ও বাদশা যখন ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিলেন, তখন একদল হামলাকারী তাদের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারা গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাদশা মিয়ার শরীরের একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হলেও চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও আদাবর এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কয়েক দিন আগের সংঘর্ষের জের ধরে উভয় পক্ষ নিজেদের উদ্যোগে সালিশে বসেছিল। সালিশে কোনো সমাধান না হওয়ার পরই প্রতিপক্ষের হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার কাজ চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত বাদশা মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল-তা স্পষ্ট হবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত