সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ের কক্ষে অশোভন আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালি বহুপার্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সরাসরি নির্দেশনার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার এমপিও (Monthly Pay Order) সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুকালি বহুপার্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ের কক্ষে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে এবং অশোভন আচরণ করতে দেখা যায়।
বিষয়টি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণ শুধু অনৈতিকই নয়, এটি আইনবহির্ভূত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী মো. রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার এমপিও সুবিধাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ওই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নিজ কক্ষে বসে অসংলগ্নভাবে কথা বলছেন। ভিডিওতে তাকে নিজের মুখেই মদ্যপানের বিষয়টি স্বীকার করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতেও দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার স্বজনরা বিদ্যালয়ে এসে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত