আলু দিয়ে তৈরি খাবারের কদর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ভর্তা, ভাজি, রোস্ট কিংবা ফ্রাই— যেভাবেই প্রস্তুত করা হোক না কেন, আলুর স্বাদ সবসময়ই মানুষের পছন্দের শীর্ষে থাকে। তবে মুচমুচে সোনালি রঙের এক প্লেট ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের কদরই যেন একটু আলাদা। ছোট থেকে বড় সবার প্রিয় এই খাবার এখন শুধু ফাস্ট ফুড নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যসংস্কৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ ১০ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবস। মূলত আন্তর্জাতিকভাবে এটি ন্যাশনাল ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ডে নামেই বেশি পরিচিত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইপ্রেমীদের মাঝে দিনটি বেশ ঘটা করে উদযাপিত হয়। বর্তমানে প্রতিবছর জুলাই মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার এই দিবস পালনের রীতি চালু আছে। এর আগে ১৩ জুলাই তারিখে দিনটি পালিত হলেও ২০২৩ সাল থেকে এটি দ্বিতীয় শুক্রবারে নির্ধারণ করা হয়। তবে দিবসটির প্রকৃত সূচনা কবে বা কার হাত ধরে হয়েছিল, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের ইতিহাস
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ রয়েছে। নামের সঙ্গে ফ্রান্সের সংযোগ থাকলেও বেলজিয়ামও এই খাবারের উদ্ভাবক হিসেবে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।
একটি জনপ্রিয় মত অনুযায়ী, ১৭০০ শতকে বেলজিয়ামের মিউজ নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা ছোট মাছের বিকল্প হিসেবে আলু লম্বাটে করে কেটে তেলে ভাজতেন। আবার অনেক খাদ্য ইতিহাসবিদের মতে, ১৮০০ শতকের শেষ দিকে ফ্রান্সে ‘পম ফ্রিত’ নামের খাবারটি জনপ্রিয়তা পায় এবং সেখান থেকেই আধুনিক ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের বিস্তার ঘটে। ফলে এর প্রকৃত সূচনা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
নতুন স্বাদে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই উপভোগের কিছু আইডিয়া
বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবসে চাইলে চিরচেনা স্বাদের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু আয়োজন করা যেতে পারে—
[caption id="attachment_12527" align="alignnone" width="732"]
ছবি- চিলি চিজ ফ্রাই[/caption]
চিলি চিজ ফ্রাই: যারা ঝাল খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য দারুণ একটি বিকল্প হতে পারে চিলি চিজ ফ্রাই। মচমচে ফ্রাইয়ের ওপর মসলাদার চিলি, কিমা মাংস বা বিনসের সস এবং প্রচুর গলানো চিজ দিয়ে তৈরি করা হয় এই পদ। ঝাল, ক্রিমি ও ক্রাঞ্চের সমন্বয়ে তৈরি হয় লোভনীয় স্বাদ। ইচ্ছে হলে এতে জালাপেনো, স্প্রিং অনিয়ন বা সাওয়ার ক্রিমও যোগ করা যায়।
ক্রিসপি সেসামি হানি চিলি ফ্রাই: মিষ্টি, ঝাল ও নোনতা স্বাদের চমৎকার মিশ্রণ এই ফ্রাই। মচমচে ফ্রাইয়ের সঙ্গে মেশানো হয় হানি চিলি সস এবং ওপরে দেওয়া হয় ভাজা তিল। ঝাঁঝালো স্বাদপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে দারুণ পছন্দ।
লোডেড ফ্রাই: সাধারণ ফ্রাইকে একটি পূর্ণাঙ্গ খাবারে রূপ দেয় লোডেড ফ্রাই। এতে যুক্ত করা হয় চিজ, সাওয়ার ক্রিম, সালসা, গুয়াকামোল, বিনস, বেকন বা বিভিন্ন হার্বস। পার্টি বা আড্ডার আয়োজনে এই ক্রিসপি ও চিজি ফ্রাই বেশ জনপ্রিয়।
সুইট পাপরিকা ফ্রাই: কম মসলায় ভিন্ন স্বাদ খুঁজলে সুইট পাপরিকা ফ্রাই হতে পারে ভালো বিকল্প। পাপরিকার হালকা ধোঁয়াটে স্বাদ ও মৃদু ঝাঁজ এই ফ্রাইকে দেয় বিশেষ আকর্ষণ।
লেমন পেপার ফ্রাই: লেবুর সতেজ স্বাদ ও গোলমরিচের ঝাঁজের মিশেলে তৈরি হয় লেমন পেপার ফ্রাই, যা ক্লাসিক ফ্রাইয়ের একটি নতুন সংস্করণ। কেচাপের সঙ্গে পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবসে তাই একঘেয়ে স্বাদের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো ফ্লেভার চেখে দেখা যেতে পারে। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ছোট এই আয়োজনও দিনটিকে করে তুলতে পারে আরও উপভোগ্য।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত