রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও কোটি টাকার ব্যবসা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ভাঙচুর ও লুটপাটের যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মূল ঘটনা আড়াল করার প্রচেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ২টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ও ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পাশে দাঁড়ান নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন।
লিখিত বক্তব্য পড়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মৃত মোহাম্মদ আলী খামারুর কন্যা ফাইমা খাতুন। তিনি জানান, ২০১০ সাল থেকে তাঁর স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, পলাশী, চন্দ্রপুর, উদপাড়া, ডাংগাপাড়া ও রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা তারা বৈধ লাইসেন্স ও নিয়মিত কর পরিশোধ করে পরিচালনা করে আসছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা তাদের ব্যবসায়িক লাইনে হামলা চালিয়ে মেশিন ও তার কেড়ে নেন এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালান। এই ঘটনার মানসিক আঘাতে তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর সংসারের হাল ধরে তিনি নিজেই দীর্ঘ লড়াই করে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেন।
ফাইমা খাতুনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম নতুন করে তাঁর ব্যবসা দখল করে নেন। এ বিষয়ে তিনি থানা, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও বিটিভি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দেন এবং স্থানীয় নেতাদের কাছেও সহায়তা চান, কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে আসাদুল ইসলাম তাঁকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠান। নিরাপত্তার কারণে তিনি ছাত্রদল নেতাদের সহায়তা নিয়ে সেখানে যান। ফাইমা খাতুনের দাবি, আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে, যাতে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ভাঙচুর ও লুটপাটের বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ পারভেজ রানা, শাহীন আলম ও সুমন দাবি করেন, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একজন নারীর পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ফাইমা খাতুন যেন নির্বিঘ্নে তাঁর বৈধ ব্যবসা ফিরে পান, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি, তাই এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত