শুক্রবার দিনটি শুরু হয়েছিল আনন্দ নিয়েই। ঢাকার কর্মব্যস্ত জীবন ছেড়ে তিন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিজের জন্মস্থান কিশোরগঞ্জে বেড়াতে এসেছিলেন বাছির উদ্দিন মিলন। উদ্দেশ্য ছিল হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং মেয়েদের সঙ্গে কিছুটা অবসর সময় কাটানো। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক মর্মান্তিক পরিণতিতে।
হাওরের পানিতে যখন বাবা ও মেয়েরা গোসল করতে নেমেছিলেন, তখন কেউই আঁচ করতে পারেননি যে মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যাবে এক দুর্ঘটনা। পানির নিচে থাকা পাকা সড়কের ঢালে হঠাৎ পা পিছলে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করেন মেজো মেয়ে শামন্তী। মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাবা মিলন। শুরু হয় স্রোতের বিপরীতে তার প্রাণান্তকর সংগ্রাম। দীর্ঘ চেষ্টার পর মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি, তবে ততক্ষণে নিজের শারীরিক শক্তি একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। প্রবল স্রোতের সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি তিনি, ধীরে ধীরে তলিয়ে যান গভীর পানিতে।
মেয়েদের চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ। সবাই মিলে তাকে খুঁজতে শুরু করলেও দীর্ঘ সময় পর তাকে উদ্ধার করা গেলেও ততক্ষণে সময় পেরিয়ে গিয়েছিল অনেকটাই।
নিহত বাছির উদ্দিন মিলন (৪২) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ব্যস্ত কর্মজীবনের অবসরে মেয়েদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই তিনি কিশোরগঞ্জে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও কিশোরগঞ্জ ক্লিনিকের মালিক শাহাদাত কবীর মুকুল জানান, শুক্রবার মিলন পরিবারসহ করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট হয়ে গভীর হাওরে যান। পরবর্তীতে মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর সেতু এলাকায় ভ্রমণের সময় সবাই পানিতে নামলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়েই বাছির উদ্দিন মিলনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে গাইটাল এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, তলা, রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০।
২০২৬ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত