দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, মানুষের দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) আয়োজিত ৩২তম বিএসভিইআর অ্যানুয়াল সায়েন্টিফিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল-“Translating Veterinary Education and Research into Sustainable Livestock Development and Global Health”।
ভেটেরিনারি ও ফিশারিজ বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ফিশারিজ খাতে ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি পদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে শিক্ষিত তরুণদের জন্য ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাণী চিকিৎসাসেবাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে দেশের প্রতিটি বিভাগে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকায় একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল রয়েছে। প্রাণীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত প্রাণীগুলোকে রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত পশু রোগমুক্ত কি না এবং তা মানুষের জন্য নিরাপদ কি না—সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি বিষয়ে গবেষণা বাড়ানো গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। পাশাপাশি নদী, খাল ও জলাশয়ের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিএসভিইআর-এর সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।
চিফ পেট্রন হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাকৃবি সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।
এ ছাড়া ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাহবুব আলম এবং সদস্যসচিব প্রফেসর ড. তাহসিন ফারজানা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে বার্ষিক বক্তৃতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মাঈনুদ্দিনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলন শেষে বিকেল ৪টার দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম, চলমান প্রকল্প, গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বিএফআরআই উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মাছের জার্মপ্লাজম বিতরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং ভেটেরিনারি শিক্ষায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত