সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে।
একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ জনে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৪ জন।
মারা যাওয়া দুই শিশুই অল্প বয়সী
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। সাইখান হোসেন নামের শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার বাবা হাবিবুর রহমান। তাদের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকায়।
অন্য শিশুটি ১১ মাস বয়সী তানহা আক্তার। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাবা কনকেল আহমদ। তাদের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ঘোশামার এলাকায়।
সুনামগঞ্জে হাম রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭৬ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩০৫ জন, হবিগঞ্জে ১৪৮ জন, মৌলভীবাজারে ১৪৬ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৭৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
নিশ্চিত হাম শনাক্তের সংখ্যায় বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ সবচেয়ে এগিয়ে। এরপর রয়েছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জে শনাক্ত ১৪৮ রোগীর মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
এদিকে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৩৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। অন্য ১২৯ জন মারা গেছেন হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে হাম ও উপসর্গে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে মারা গেছেন ৫০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জন।
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৮৪ জন
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ২৮৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১২০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন এবং রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, বিয়ানীবাজারে দুজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন।
প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া, হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীর চাপ বাড়া এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হাম প্রতিরোধে কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত