শখের বশে জাহাজের বিকট হর্ন বাজিয়ে একটি ঘুমন্ত মেরুভল্লুককে জাগিয়ে তোলার খেসারত হিসেবে চার লাখ টাকারও বেশি জরিমানা গুনতে হলো এক ব্যক্তিকে। বন্যপ্রাণীকে অযথা বিরক্ত করার দায়ে কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়েছেন ওই বোটচালক।
চলতি মাসের শুরুর দিকে নরওয়ের প্রত্যন্ত দ্বীপপুঞ্জ স্যালবার্ডের উপকূলে এই ঘটনা ঘটে, যা উত্তর মেরু থেকে প্রায় ৬২০ মাইল দূরে অবস্থিত। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি স্থানীয় ফিয়র্ড বা সমুদ্র-খাঁড়ির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজের যাত্রীরা তীরে বিশ্রামরত একটি মেরুভল্লুক দেখতে পান। কৌতূহলবশত প্রাণীটিকে নড়াচড়া করতে দেখার জন্য জাহাজে থাকা এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকট শব্দে ফগহর্ন বাজিয়ে দেন, যার ফলে চমকে গিয়ে ভল্লুকটি হঠাৎ জেগে উঠে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয় এবং স্যালবার্ডের গভর্নর লারস ফাউস তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জাহাজে থাকা ওই ব্যক্তি হর্ন বাজিয়ে ঘুমন্ত প্রাণীটিকে জাগিয়ে তুলে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য করেছেন। অভিযুক্ত বোটচালক নিজের আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে ৫০ হাজার নরওয়েজীয় ক্রোনার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ তার নাম-পরিচয় বা জাতীয়তা প্রকাশ করেনি।
স্যালবার্ডের পরিবেশ সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, বিনা কারণে মেরুভল্লুককে বিরক্ত করা, তাড়া করা বা প্রলুব্ধ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ১৯৭২ সাল থেকে সেখানে মেরুভল্লুক সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকাভুক্ত। কঠোর প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীরা যেন কোনো মানসিক চাপে না পড়ে বা তাদের স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত না হয়, সেজন্য দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা রয়েছে সেখানে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে একজন পর্যটককে একটি ওয়ালরাসের অতিরিক্ত কাছাকাছি যাওয়ার অপরাধে ১১ হাজার ৫০০ ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছিল।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, তলা, রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০।
২০২৬ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত