কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ, ডাকাতি ও মানব পাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার আসামি দুই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের একজন পাহাড়কেন্দ্রিক ডাকাতি ও অপহরণ চক্রের সঙ্গে এবং অন্যজন সাগরপথে মানব পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ‘স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন’ উদ্যোগের আওতায় তারা আত্মসমর্পণ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলাকালে দুই ব্যক্তি নিজ নিজ এলাকার পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বুধবার দুপুরে টেকনাফ মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অহিদুর রহমান।
আত্মসমর্পণকারী দুজন হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নূর হোসেন ওরফে নূর হাছান (২৭) এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার মো. হোছন ড্রাইভার (৪০)।
পুলিশ জানায়, নূর হোসেন টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতি ও অপহরণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।
অন্যদিকে, মো. হোছন ড্রাইভারকে সাগরপথে মানব পাচারকারী একটি চক্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মানব পাচারসহ তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে তিনি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এএসপি অহিদুর রহমান বলেন, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার পাহাড় ও সাগরকে কেন্দ্র করে কোনো অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। তবে কেউ অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নূর হোসেন ও হোছন ড্রাইভারের আত্মসমর্পণ অন্যদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। কেউ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাকে বা তার পরিবারের সদস্যদের অহেতুক হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে পাহাড় ও সাগর এলাকায় যারা এখনো বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত নিকটস্থ থানা বা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অতীতে পাহাড়ি একটি অপহরণকারী চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া নুরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অপরাধের স্থায়ী অবসান প্রয়োজন। তার আশা, আত্মসমর্পণের এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত হবেন।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, তলা, রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০।
২০২৬ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত