শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী, আগামীকাল আরও নিরাপদ—বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপদ রাখা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হেইলিবারি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীরা অংশ নেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। শুধু পড়াশোনার মানোন্নয়ন নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান সারওয়াত রেজা বলেন, বিদ্যালয়ের উৎকর্ষতা বলতে শুধু একাডেমিক ফলাফল বোঝালে হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুস্থতার বিষয়টিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
হেইলিবারি ভালুকার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক সাইমন ও’গ্রেডি বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিদ্যালয় নেতৃত্বের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিদ্যালয় নেতাদের দৃশ্যমান, অনুসন্ধিৎসু, সাহসী, ধারাবাহিক, তথ্য-প্রমাণনির্ভর এবং শেখার মানসিকতাসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন শেষ করার হার কমে যাওয়া, অভিযোগ জানাতে অনীহা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই যথেষ্ট নয়। কোনো উদ্বেগ বা অভিযোগ দেখা দিলে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, কাকে জানাতে হবে, কীভাবে ঘটনাটি নথিভুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে শিক্ষক, কর্মী ও বিদ্যালয় নেতৃত্বের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আপনি কী করতেন যদি...?’ শীর্ষক অংশগ্রহণমূলক অধিবেশন। সাইমন ও’গ্রেডির পরিচালনায় এই পর্বে শিক্ষা নেতারা শিক্ষার্থীর আত্মক্ষতি, বিদ্যালয়ের কোনো কর্মীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ, নিপীড়ন এবং অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় এসব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক করণীয়, প্রতিবেদন করার দায়িত্ব, গোপনীয়তা রক্ষা, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে স্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন, উদ্বেগ ও অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, পেশাগত প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থী সুরক্ষা কোনো একটি নীতিমালা বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির একক দায়িত্ব নয়। কার্যকর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা, তথ্য-প্রমাণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং পুরো বিদ্যালয়জুড়ে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ প্রয়োজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, তলা, রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০।
২০২৬ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত