যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তার কারণে নিজেদের দেশ সিরিয়া ছাড়তে হয়েছিল মোহামেদ মাহমুদ জসিম ও হুনাইদি তালা হাসানকে। নিরাপদ জীবনের সন্ধানে তারা আশ্রয় নেন জর্ডানে। বাস্তুচ্যুতির কঠিন সময় পেরিয়েও নিজেদের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি এই দুই তরুণ অ্যাথলেট। তায়কোয়ান্দোই হয়ে উঠেছে তাদের নতুন পথচলার সঙ্গী।
জর্ডানের আজরাক শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করা জসিম ও হুনাইদি এবার আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে শরণার্থী দলের হয়ে অংশ নিচ্ছেন। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শরণার্থী পতাকার অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও তাদের জন্য হয়ে উঠেছে স্মরণীয়। মার্চপাস্টে ইয়েমেনের পর এবং জাপানের আগে শরণার্থীদের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করেন জসিম ও হুনাইদি। ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তারা।
হুনাইদির কাছে শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটি গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছানো তাদের মনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। পথ কঠিন হলেও চেষ্টা থাকলে বাধা অতিক্রম করা সম্ভব—এমন বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাহমুদ।
৯ বছর বয়সে তায়কোয়ান্দো শুরু হুনাইদির
মাত্র ৯ বছর বয়সে তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে পরিচয় হয় হুনাইদি তালা হাসানের। পরবর্তীতে দেশ ছাড়তে হলেও খেলাটির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। জর্ডানে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি।
বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট মেয়েদের মাইনাস ৪৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ নয়; বড় কোনো অর্জনের স্বপ্নও দেখেন তিনি।
তবে পদক জিততে পারবেন কি না, সেটির চেয়েও এশিয়ান গেমসে শরণার্থী হিসেবে অংশ নেওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন হুনাইদি। তাঁর ভাষায়, তায়কোয়ান্দো কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা তাঁর কাছে শুধুই একটি ক্রীড়া আসর নয়; এটি বহুদিনের একটি স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত।
১৪ বছর বয়স থেকে তায়কোয়ান্দোতে মাহমুদ
মোহামেদ মাহমুদ জসিম ১৪ বছর বয়সে তায়কোয়ান্দো শুরু করেন। বর্তমানে ছেলেদের ৮০ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
সিরিয়া থেকে জর্ডানে যাওয়ার পর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন মাহমুদ। নতুন দেশে তখন কী করবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সেই সময় তায়কোয়ান্দো তাঁর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
মাহমুদের ভাষ্য, কঠোর অনুশীলন, কোচ ও পরিবারের সহযোগিতা তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এখন এশিয়ান গেমসে নিজের জন্য যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তেমনি যারা তাঁর পাশে ছিলেন তাদের প্রত্যাশাকেও সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামছেন তিনি।
তিনি মনে করেন, এশিয়ান গেমসে তাঁর উপস্থিতি শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি গল্প।
স্বপ্ন এখন এশিয়ান গেমসের মঞ্চে
যুদ্ধের কারণে দেশ ছাড়ার পর শরণার্থী ক্যাম্পে জীবন শুরু করা দুই তরুণের জন্য তায়কোয়ান্দো হয়ে উঠেছে নতুন পরিচয়ের মাধ্যম। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অনুশীলন চালিয়ে তারা পৌঁছেছেন এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে।
পদকের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের গল্পের মাধ্যমে তারা দেখাতে চান, প্রতিকূল পরিস্থিতি স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত