বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ফিফার টুর্নামেন্ট মানেই এতদিন ছিল মূলত বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। কিন্তু এবার সেই চেনা চিত্র বদলেছে। প্রথমবারের মতো ফিফার একটি মূল টুর্নামেন্টের মঞ্চে সরাসরি খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’-এ লাল-সবুজের প্রথম প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১তম বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ১৩৬তম মালয়েশিয়ার। ফলে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বড় সুযোগ।
তবে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি টুর্নামেন্টটিকে দেখছেন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারলে এবং গোল করে ম্যাচ ড্র করতে পারলে সেটিই হবে বড় অর্জন। জয়ের সুযোগ তৈরি হলে সেটিকে বাড়তি সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
ডুলির পরিকল্পনায় আসিয়ান কাপের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, বর্তমান টুর্নামেন্টটি ভবিষ্যতের বড় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।
মাঠের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজারা
কোচের তুলনামূলক সতর্ক অবস্থানের বিপরীতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে বিদেশি লিগে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে প্রস্তুত।
দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীর বক্তব্যেও সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ কাউকে ভয় পেতে আসেনি। আসিয়ান কাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়াই দলের লক্ষ্য।
কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডুলি এখন পর্যন্ত সান ম্যারিনোর বিপক্ষে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে সেই জয় পেলেও এবার প্রতিপক্ষ অনেক কঠিন। গ্রুপে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দলও রয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকার সুযোগ
র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক ফলাফল তাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হার দেখেছে মালয়েশিয়া। ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের পরাজয় রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে সান ম্যারিনো ও ভারতকে হারিয়েছে। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে বাংলাদেশকে একেবারে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
তবে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। গত তিন মাসে হামজা চৌধুরী মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিপরীতে গত দুই মাসে মালয়েশিয়া পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। ম্যাচ প্রস্তুতির এই পার্থক্য মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর বড় প্রত্যাশা
এবারের বাংলাদেশ দলে প্রবাসী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের উপস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায়। মোট নয়জন প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে দলটি আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।
আক্রমণভাগে ফারহানের গতি ও দক্ষতা বাংলাদেশকে বাড়তি বিকল্প দিতে পারে। বক্সের ভেতরে জাপানি বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার শুকির কাছ থেকেও গোলের প্রত্যাশা থাকবে।
মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী ও শমিতের সঙ্গে নতুন সংযোজন ফাহামিদুল। ফলে বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরিতে বাংলাদেশের বিকল্প বেড়েছে।
রক্ষণভাগেও রয়েছে অভিজ্ঞতা ও নতুন শক্তির সমন্বয়। জায়ান ও তারিক কাজীর সঙ্গে জিদান ইউসুফের অন্তর্ভুক্তি দলটির রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
কোচের সতর্কতা, খেলোয়াড়দের বড় স্বপ্ন
থমাস ডুলি যেখানে ড্রকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন, সেখানে খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে আরও বড় স্বপ্ন। আসিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, তার উত্তর মিলবে মাঠের খেলায়।
র্যাঙ্কিং, প্রস্তুতি কিংবা প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতা—সব হিসাবের বাইরে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বাংলাদেশের সামনে ভালো কিছু করার সুযোগ থাকছে। এখন সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারে হামজারা, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত