ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির উপকরণ ও বিপুলসংখ্যক মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের তিনটি দাবিকে কেন্দ্র করে তারা রাজপথে রয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার রয়েছে। তার দাবি, এসব দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা আর ঘটবে না।
পাটওয়ারীর ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হলে যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, তার কাছে মনে হয় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তিনি কেন এমন মন্তব্য করেছেন, সেটিও জানার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে তিনি এখনই কিছু বলতে পারছেন না। সিদ্ধান্তটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানাতে পারবেন।
ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপকরণ এবং ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের তথ্য জানায় পুলিশ।
যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে পুলিশ।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোরে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ইমনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা।
পুলিশ জানায়, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, লাল রঙের ২০টি কসটেপ ও কালো রঙের ১১টি কসটেপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাগজে তৈরি ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, উপাদান গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত