চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান শাটডাউন কর্মসূচির চতুর্থ দিনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী গ্রাফিতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন রং ও প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে গ্রাফিতিতে তাদের দাবি, ক্ষোভ এবং আন্দোলনের নানা বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব গ্রাফিতি আঁকা সম্ভব হয়নি। শনিবারও এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।
এর ফলে চুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালও শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতিবাদের দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠেছে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পর আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন রাত থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে, ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয়পত্রের তথ্যসহ স্বাক্ষর দেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। একই দিন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠ করা হয়। সন্ধ্যায় একই দাবিতে মশাল মিছিলও করেন তারা।
এদিকে, ২৪ সেপ্টেম্বর চুয়েট শিক্ষক সমিতি উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে নতুন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে না চাওয়ার অবস্থানও জানায় সংগঠনটি।
কর্মকর্তাদেরও কর্মবিরতি
উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শুক্রবার সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট কর্মকর্তা সমিতি। তবে জরুরি সেবা ও সরকারি সেবার আওতাভুক্ত কার্যক্রম এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।
শুক্রবার কর্মকর্তা সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, চুয়েট শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে এবং শিক্ষক সমিতির নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মর্যাদা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব সবার। পাশাপাশি চুয়েটের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ইকরাম বলেন, ‘আমাদের চুয়েট একটা পরিবার। ছাত্ররা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষকেরাও কর্মবিরতি দিয়েছেন। আমরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।’
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত