সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বন্যা ও যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চালের ৮০ বস্তার হদিস মিলছে না। বাগুটিয়া ইউনিয়নে বিতরণের জন্য রাখা ৬০০ বস্তা চালের মধ্যে ৫২০ বস্তা জব্দ করে সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় বাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান আত্মগোপনে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বাগুটিয়া ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ছিল। বিতরণ শুরুর আগে বরাদ্দের তুলনায় চালের বস্তা কম থাকায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি জানার পর ওই রাতেই উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিনানই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ৫২০ বস্তা চাল জব্দ করেন। পরে কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের অভিযানের আগেই প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অপূর্ব সরকার বলেন, পরিষদের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে চেয়ারম্যান গোপনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে চাল মজুত করেছিলেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, শুধু বাগুটিয়া ইউনিয়ন নয়, চৌহালীর অন্যান্য ইউনিয়নেও সরকারি চালের একটি অংশ বিতরণের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।
চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, চাল উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছু চাল বাকি থাকতে পারে। তাঁর দাবি, সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, চালগুলো দুস্থদের জন্যই রাখা হয়েছিল। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করা হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে চৌহালীর সাতটি ইউনিয়নে বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৯৩৩ জনের জন্য প্রায় ৫৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বরাদ্দ করা চালের পরিমাণ, মজুত ও বিতরণের হিসাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চাল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৮০ বস্তা চালের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা এবং এর দায় কার—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত