নতুন শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম বিদ্যাপীঠ শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এ সময় কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহা. লতিফুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. তরিকুল আলম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য, উপাধ্যক্ষ মোহা. শরিফুল আলম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক,কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে অতিথিরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। একই সঙ্গে কলেজজীবনের শুরু থেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শিক্ষার্থীদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষা এবং কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা করতে হবে।
শিক্ষাজীবনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানী ও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীনদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যাক না কেন, সততা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই কলেজজীবন থেকেই এসব গুণাবলি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
একাদশ শ্রেণিতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন পরিকল্পনার সময় শুরু হয়। এ পর্যায়ে নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা চিহ্নিত করে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি বই পড়া, তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। কলেজ পর্যায় থেকেই এসব দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজজীবনে সফলতার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে শিক্ষকরা যেমন একাডেমিক দিকনির্দেশনা দেবেন, তেমনি অভিভাবকদেরও সন্তানদের পড়াশোনা, সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক বিকাশের বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।
একটি ইতিবাচক শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদেরও কলেজের নিয়ম-কানুন মেনে চলা, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান সময়ে শিক্ষাঙ্গনের ধারণা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বা পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাহিত্যচর্চা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করে। ফলে কলেজজীবনের শুরু থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কলেজের নিয়ম-কানুন, পাঠদানে মনোযোগ, নিয়মিত উপস্থিতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নতুন শিক্ষার্থীদের কলেজের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সময় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি ছিল স্কুলজীবন পেরিয়ে কলেজজীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষক এবং নতুন পরিবেশে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা।
শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীনদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শুধু বরণ করে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নতুন শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের আগামী দিনের শিক্ষাজীবনের একটি দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা, মানসম্মত পাঠদান, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাওয়া।
আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা—নতুন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত