ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুরোপুরি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই মহাসড়কটির উন্নয়নের চিত্র দৃশ্যমান হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকার কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সিলেটের সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে সড়কটির উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি চার লেনের মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিলেটের রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
একই সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের বিদ্যমান সংযোগগত সীমাবদ্ধতা দূর করে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন ধরনের ছাড়পত্র, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ ব্যবসা শুরুর বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বর্তমানে যে ৩৫৫ দিন সময় লাগে, তা কমিয়ে ১৪ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে।
সিলেটের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের বিকাশে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরই প্রস্তাবিত শিল্পনগরীর উন্নয়নকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা খাতের সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নগরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরের নিরাপত্তা জোরদারে সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ উদ্যোগে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)সহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও আঙুলের ছাপভিত্তিক অনলাইন যাচাইব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের তরুণ ও ফ্রিল্যান্সারদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে আন্তর্জাতিক মানের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত