কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়ি ও ছেলের গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আদালতে মামলা করার সাত দিনের মাথায় নুরজাহান বেগম (৬৫) নামে এক নারীকে থানায় নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, রোববার সকালে মামলার বিষয়ে কথা বলার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে থানায় নেওয়া হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নুরজাহান বেগম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ি ও ছেলের গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে কুষ্টিয়ার আদালতে মামলা করেন নুরজাহান। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও কৃষক দলের স্থানীয় ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুরজাহানের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একদল পুলিশ নুরজাহানের বাড়িতে যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তখন তিনি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাকে জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদালতে করা মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যান।
নুরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, জমি ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ আগে তাদের বাড়ি ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তার দাবি, এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।
সেলিনা বলেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তার মা আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নলকুলা এলাকায় স্থানীয় কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্দেহ করা হয়। পরে ওই এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। নুরজাহানের বাড়িও এর মধ্যে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
এর পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করেন হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনকে আসামি করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতাকেও আসামি করা হয়েছে।
নুরজাহানের ছেলে রুহুল আমিনের দাবি, তাকেও একটি মামলায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আসামি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়ার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং এ অবস্থায় তার বৃদ্ধ মাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।
তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, কৃষক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় নুরজাহানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নুরজাহানের করা মামলাটি গ্রহণ না করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত