রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাইয়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে ২৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দিনারুল আলম, ইমান আহম্মেদ, মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মল্লিক, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার, কাউসার হোসেন, শ্রী অন্তর শিল, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, আবদুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল্লা সাদেক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।
আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ওই ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
তবে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই দিন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জাসদের ভাষ্য অনুযায়ী, সভা চলার সময় হামলা ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পরে পুলিশ কার্যালয় থেকে নেতা-কর্মীদের আটক করে।
আসকের উদ্বেগ ও নিন্দা
জাসদ কার্যালয়ে হামলা, মব সৃষ্টি এবং ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলার সময় মব তৈরি করে তা বন্ধ করে দেওয়া এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উদ্বেগজনক।
আসক আরও বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। সংগঠনটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে হামলা, উসকানি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে আসক।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত