যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ও মোড়ক নকল করে বাজারজাত করা হচ্ছে ভেজাল ও মানহীন শিশুখাদ্য। এসব পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, বিক্রয়মূল্য এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের তথ্য থাকছে না। কারখানার ঠিকানাও দেওয়া হচ্ছে অস্পষ্টভাবে। এসব খাবার খেয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন এবং বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। সর্বশেষ সোমবার যশোরের কেশবপুর উপজেলার মধু সড়ক স্বর্ণপট্টির কালী বাড়ির সামনে অবস্থিত ‘ইত্যাদি স্টোরে’ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ও মানহীন শিশুখাদ্য পায় অধিদপ্তরের একটি দল।
অভিযানে চায়না চোক, ড্রিংকা, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, ইনটেক ম্যাংগো জুস ও জিরা চিপসসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং মূল্য উল্লেখ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পাশাপাশি কারখানার ঠিকানাও ছিল অস্পষ্ট।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের তিনটি ধারায় ইত্যাদি স্টোরের মালিক স্বপন কুমার দাসকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান। অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল, কেশবপুরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাটে তানসীপ ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০২৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণ জুস, ম্যাংগো বারসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্য উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ভোক্তা অধিকার আইনের তিনটি ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা বাজারের নিউজ মেঘনা বেকারিতে অভিযান চালিয়ে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি পাউরুটি এবং নকল মোড়ক ব্যবহারের প্রমাণ পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পণ্যগুলোর মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং বিক্রয়মূল্যও উল্লেখ ছিল না। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া গত ৯ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের ইমরান ফুডসের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভুষি ও রাসায়নিক ব্যবহার করে সয়াবিন বড়ি তৈরির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যশোর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রকিব সর্দার অপু বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান আবার নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করছে।
তিনি জানান, কেশবপুরের পাজিয়ায় নকল দুধ তৈরির একটি কারখানায় তিনবার অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখানে লিকুইড গ্লুকোজ, খাবার সোডা ও চিনি মিশিয়ে দুধ তৈরি করা হতো। তিন দফা অভিযানেও উৎপাদন বন্ধ না হওয়ায় পরে কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে ছয়জনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপুর দাবি, বিভিন্ন স্থানে অভিযান শেষ হওয়ার পরও নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত