ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বারিয়াপুরের হাতাপাড়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে কয়েকটি জলাধারে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে জলাধারের মালিকপক্ষকে ভবিষ্যতে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিম-০৪-এর উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটসের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে হাতাপাড়া এলাকার কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। টিম-০৪-এর সদস্যরা এসব জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ করেন। পাশাপাশি জলাধারগুলোর মালিকপক্ষকে ভবিষ্যতে সেখানে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে অবগত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও পরিদর্শনে মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই জলাধার, পরিত্যক্ত পাত্র ও খোলা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি।
[caption id="attachment_7143" align="alignnone" width="1024"]
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার অভিযান।[/caption]
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ সময় বাড়িঘরের আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা ও আশপাশের পরিবেশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।
এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে স্থানীয় এলাকাবাসীও অংশ নেন।
পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন।
[caption id="attachment_7144" align="alignnone" width="1024"]
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলাধারগুলোতে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে মালিকপক্ষকে সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে।[/caption]
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পানির পাত্র ও জলাধারে জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাসাবাড়ির পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, দোকানপাটের আশপাশ এবং খোলা স্থানে পড়ে থাকা বিভিন্ন পাত্রেও মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে বাড়ির ভেতর ও বাইরের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানি জমতে পারে—এমন স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানের ব্যানারে ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
নাগরিকদের নিয়মিত বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, বাগান, ফুলের টব ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দেওয়া অথবা পাত্রটি এমনভাবে সংরক্ষণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে সেখানে পানি জমতে না পারে।
বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ক্যান, বোতল, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পাত্র সরিয়ে ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, জলাধার ও আশপাশের খোলা জায়গা ভালোভাবে পরীক্ষা করে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা জলাধারে জমে থাকা সামান্য পানিও মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা রাখা জরুরি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভার নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ ধরনের মাঠপর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, জলাধার পরিষ্কার রাখা, পরিত্যক্ত পাত্র সরিয়ে ফেলা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমি কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বছরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পৌরসভার উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত