ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে বাসের ভেতরের বিরোধকে কেন্দ্র করে আইসিটি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচতলার করিডোরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি ডাবল ডেকার বাসে উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও গল্পগুজব নিয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং বাংলা বিভাগের রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও তাঁর বন্ধুদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে মারামারি হয়। এতে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীই আহত হন।
ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরে প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমঝোতা সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উভয় বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সভা শেষে প্রক্টর অফিস থেকে নিচে নামার পর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁদের বিভাগ থেকে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক সভায় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বাংলা বিভাগের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসের নিচে জড়ো হন। সভা শেষে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদও আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান। এ ছাড়া আবু সাঈদসহ আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আবু সাঈদকে উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে জড়ো হন। সেখান থেকে তাঁরা আবার বের হতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান ও অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।
বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি একাডেমিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে কঠোর একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মারামারি এবং একজন বিভাগীয় সভাপতিকে আহত করার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে দুই ঘণ্টা সময় চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলা বিভাগের একাডেমিক সভা চলছিল এবং আইসিটি বিভাগের সভাপতিসহ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান করছিলেন।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত