রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর ‘সাথি’ পদ বাতিল করা হয় বলেও জানিয়েছে শিবির।
সম্প্রতি সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবির। বুধবার রাতে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাও চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩১ আগস্ট শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদতে উদাসীনতা, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আম্মারের ‘সাথি’ পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একই বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তাঁর ‘সাথি’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিবিরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে আম্মারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ কারণে শিবিরের দায়িত্বশীলদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে তাঁকে এড়িয়ে চলা এবং তাঁর বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
শাখা শিবিরের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় রাজশাহী নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, মহানগর ছাত্রশক্তির পদ বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে আম্মারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটির কাছে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে ওই নেতা দাবি করেন।
শিবিরের আরেক নেতা জানান, আম্মার তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা শাখার ‘সাথি’ ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘বিকল্প সাহিত্য’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটিতে শিবিরের জনশক্তির সম্পৃক্ততা ছিল।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন সালাউদ্দিন আম্মার। রাকসু নির্বাচনে তিনি ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা এবং রাকসুর তহবিলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে শাখা শিবিরের পক্ষ থেকেও আম্মারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না বলে জানানো হয়েছিল।
সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত