প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেই অবস্থানই বাস্তবে দেখালেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এটিকে "জিরো টলারেন্স" নীতির স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসে। এরপর বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দ্রুততম সময়ে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে অতীতে বহু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ উঠলেও ক্ষমতাসীন দলগুলো সাধারণত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ছত্রছায়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক স্বার্থ এবং এক ধরনের অস্বীকৃতির সংস্কৃতি। নিজের দলের লোকের অপকর্ম স্বীকার করলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়, এমন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল। অথচ ক্ষমতাসীনরা অস্বীকার করলেও সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো জানত। ফলে ক্ষমতায় গেলে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়, এমন ধারণা তৈরি হয়। এতে শুধু ক্ষমতাসীন দলই নয়, সামগ্রিকভাবে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয়, তারা অপরাধী।
তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দলের কঠিন সময়েও সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি দ্বিধা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রভাবশালী নেতাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি ও সহিংসতার পথে গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত দুই বছরে দলটির সহস্রাধিক নেতা-কর্মী বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। এটি দলের নেতা-কর্মীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে সহায়ক হবে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের ভেতরের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। এতে রাজনীতি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত করার পথ সুগম হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত