ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্তে নতুন কোনো সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে দেওয়া চার্জশিটেও মামলার আগে অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের একই হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গত বছরের ১৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষ করতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। এই সময়ে শারমিন গোলন্দাজের নামে নতুন কোনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুসন্ধানের সময় পাওয়া সম্পদের পরিমাণেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
তবে মামলার এজাহার ও তদন্ত শেষে দেওয়া চার্জশিটে তার ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছিল, শারমিন গোলন্দাজের নামে থাকা তিনটি ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা এবং ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছিল দুদক।
তবে চার্জশিটে বলা হয়েছে, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অপরাধলব্ধ ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ৬১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে আদালতে শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে। একই দিন কমিশন চার্জশিট অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান প্রায় দেড় বছর আগে বাদী হয়ে শারমিন গোলন্দাজের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্তও তিনি পরিচালনা করেন। তদন্ত শেষে কমিশনের অনুমোদনের জন্য চার্জশিটের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে সোমবার তা অনুমোদন করে কমিশন।
এ মামলায় শারমিন গোলন্দাজের অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকেও আসামি করা হয়েছে।
চার্জশিটে দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল সংসদ সদস্য থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের নামে রেখেছেন। পাশাপাশি শারমিনের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ওই অর্থ লেনদেন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
চার্জশিটে ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত