নাটোরের লালপুরে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এক তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর কথিত প্রেমিকসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। পরে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে আশিক জামান (২০), তাঁর বন্ধু কাজল ইসলাম (১৯) ও মো. শাকিল ইসলাম বাদলকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মোবাইল ফোনে পরিচয়, পরে দেখা করার কথা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আশিক জামানের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আশিকের সঙ্গে দেখা করতে গোপালপুর রেলগেটে যান তরুণী।
সেখান থেকে আশিক ও তাঁর বন্ধু কাজল তাঁকে ইজিবাইকে করে গ্রিনভ্যালী পার্কে নিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিকেল ৩টার দিকে আশিক ওই তরুণীকে জোর করে তাঁর বন্ধু শাকিলের জোতদৈবকী গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় শাকিল মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে তিনি তরুণীর ওপরও যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর আশিক ও শাকিলের সহায়তায় কাজলও ওই তরুণীকে নির্যাতন করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পরে বিকেল ৫টার দিকে মেহেদী নামের এক ব্যক্তি ওই কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি তরুণীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে ওই ব্যক্তি চলে যান বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।
একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই তরুণীকে রিকশায় করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে টাকা দাবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানাননি ওই তরুণী। তবে পরদিন সকালে আশিক ফোন করে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো বিষয়টি জানান ওই তরুণী।
পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তরুণীকে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরে তাঁর সঙ্গে অপরাধমূলক আচরণ করা হয়। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনজন গ্রেপ্তার, তদন্ত করছে পুলিশ
ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত