চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। বেতন-ভাতা আটকে রাখার নির্দেশকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। তবে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বেতন-ভাতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেতন-ভাতা আটকে রাখার খবর প্রকাশের পর বুধবার সকালে ব্যাংকটির সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাংকের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রথমে কর্মচারীদের এবং পর্যায়ক্রমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়।
চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, তাদের বেতন আগে কখনো বন্ধ হয়নি। নতুন উপাচার্যের নির্দেশে এবার বেতন বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা তাদের পাওনা আদায় করেছেন বলেও জানান তিনি।
উপাচার্যের চিঠিতে বেতন স্থগিতের নির্দেশ
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিককে ই-মেইল পাঠিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
মঙ্গলবার দেওয়া চিঠিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, তাঁর পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’। চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্দেশের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় করলে বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্টদের যৌথভাবে দায়ী করা হতে পারে। একই সঙ্গে নির্দেশ অমান্যকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, প্রতি মাসের নিয়ম অনুযায়ী হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর করা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার শিট ব্যাংক গ্রহণ করেছিল। পরে উপাচার্যের চিঠি পেয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়।
তবে বুধবার সকালে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত