বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুজন শিক্ষক ও একজন সাবেক শিক্ষার্থী। গবেষণার প্রভাব, প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় তিনজনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা হলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. শাহীন আলীও তালিকায় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া সিটির আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছেন।
[caption id="attachment_7917" align="alignnone" width="525"]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. শাহীন আলী[/caption]
সদ্য প্রকাশিত এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে গবেষকদের প্রকাশনা, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণায় লেখকের ভূমিকা, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার প্রভাবসহ নানা মানদণ্ডে। এতে বিশ্বের শীর্ষ এক লাখ গবেষকের পাশাপাশি নিজ নিজ গবেষণা-শাখায় শীর্ষ ২ শতাংশের মধ্যে থাকা গবেষকরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তালিকাভুক্ত তিন গবেষকের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া কাজ করছেন প্রযুক্তি, জ্বালানি ও ফলিত পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে। অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিত্র প্রক্রিয়াকরণ ও জীবতথ্যবিজ্ঞান। আর মো. শাহীন আলী গবেষণা করছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিত্র প্রক্রিয়াকরণ ও ক্যানসারবিজ্ঞান নিয়ে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে বাড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়বে এবং গবেষণার পরিধিও প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও গবেষণা-সহায়তা দিলে গবেষণার মান আরও উন্নত হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গ্র্যাজুয়েশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, তালিকায় ইবির আরও দুজন অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ও ড. মো. নজরুল ইসলামের নাম পাওয়া গেলেও যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এবারের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে স্থান পেয়েছেন মোট ৩৪৭ জন গবেষক। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮৬। অর্থাৎ এক বছরে ৬১ জন বেড়েছে, যা শতকরা হিসাবে ২১.৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ারের যৌথ গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবছর বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকা প্রকাশিত হয়। গবেষণার প্রভাব ও সাইটেশন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন গবেষণা-ক্ষেত্রে গবেষকদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
এলসেভিয়ার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা। চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাপত্র, বই ও সাময়িকী প্রকাশ করে। বছরে দুই হাজারের বেশি জার্নাল প্রকাশ করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত নিবন্ধ আড়াই লাখের বেশি, আর আর্কাইভে সংরক্ষিত প্রকাশনার সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত