নারায়ণগঞ্জে শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নয়জনকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লার লামাপাড়ায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। এতে সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিক আনোয়ার ও শামসুল দগ্ধ হন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন লাগে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। তাঁরা হলেন মো. শরিফ (৩৪), তাঁর স্ত্রী রোজিনা (৩০), রোজিনার ভাই রিয়াজ (২২) এবং মো. রনি (১৯)।
দগ্ধ চারজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, তাঁদের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়ার মোড়ের জিউস পুকুরপাড় এলাকায় একটি তিনতলা ভবনে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে নারী-পুরুষসহ ছয়জন দগ্ধ হন।
তাঁদের মধ্যে ভবনটির তৃতীয় তলার বাসিন্দা শিখা রানী (৫৫), মনা আচার্য (৬০) ও মনার মা আশা রানী (১০০) গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের একটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার বাসিন্দা পুষ্পিতা (১০), ঘরনীতাই (৬) ও নিপা (৩৫) আহত হন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুর ও দেওভোগের ঘটনায় দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রান্নাঘরে গ্যাস জমে যাওয়ার পর আগুনের সংস্পর্শে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত