ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ আয়োজন করতে এবার গুনতে হতে পারে বড় অঙ্কের অর্থ। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত রামলীলা ময়দান ভাড়া নিতে এক দিনের প্রাথমিক খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রুপি। তবে অর্থের ব্যবস্থা থাকলেও পছন্দের দিনে মাঠ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ প্রতিদিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য রামলীলা ময়দানের প্রায় সব দিনের বুকিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফাঁকা রয়েছে শুধু ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর। ফলে আন্দোলন আয়োজনের উপযুক্ত স্থান খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রতিবাদী সংগঠনগুলোকে নতুন সংকটে পড়তে হতে পারে।
দিল্লিতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিচিত স্থান ছিল যন্তর মন্তর। তবে সম্প্রতি প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানটি আর বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে—রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিকল্প তিনটি স্থানের মধ্যে যন্তর মন্তরের সবচেয়ে কাছে রামলীলা ময়দান। দুই স্থানের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। অন্যদিকে, বুরারি ময়দান প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং সিবিডি ময়দান প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে রামলীলা ময়দান তুলনামূলক সুবিধাজনক হলেও সেখানে সমাবেশ করতে আয়োজকদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হবে।
প্রায় ১২ একর আয়তনের রামলীলা ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জমায়েত হতে পারেন। এই মাঠ এক দিনের জন্য ভাড়া নিতে মূল ভাড়া দিতে হবে ৫০ হাজার রুপি। এর সঙ্গে যুক্ত হবে নিরাপত্তার জামানত ও কর। সব মিলিয়ে প্রাথমিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রুপি।
এর মধ্যে ৫৫ হাজার রুপি নিরাপত্তার জামানত হিসেবে জমা রাখতে হবে। নিয়ম মেনে মাঠ ব্যবহার করলে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা। তবে ভাড়া ও কর বাবদ ব্যয় হওয়া প্রায় ৬৬ হাজার রুপি ফেরত পাওয়া যাবে না।
আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য মাঠ ভাড়া দিতে হতো না। পুলিশের অনুমতি পেলেই সেখানে কর্মসূচি আয়োজন করা যেত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ না থাকায় ছোট সংগঠন ও সীমিত অর্থের আন্দোলনকারীদের জন্য কর্মসূচি আয়োজন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রামলীলা ময়দান ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক ধাপ। প্রথমে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে অনাপত্তিপত্র। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মাঠ ব্যবহারের জন্য বুকিং করা যাবে।
তবে দিল্লি পুলিশ এখনো নতুন বিক্ষোভস্থলগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলি প্রকাশ করেনি।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য রামলীলা ময়দানের প্রায় সব তারিখ বুকড। শুধু ডিসেম্বরের শেষ তিন দিন—২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর—ফাঁকা রয়েছে। ফলে অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি থাকলেও নির্দিষ্ট দিনে মাঠ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত