ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাজ এখানে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। সেটি যদি আমরা করতে না পারি, তাহলে প্রতি মাসে সরকার, রাষ্ট্র ও জনগণের যে অর্থ ব্যয় হয়, তা বিফলে যাবে। এ মাসেই আমরা প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেতন অনুমোদন দিয়েছি। এক মাসে যদি এই পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়, তাহলে বছরে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা চিন্তা করুন। রাষ্ট্রের এই অর্থ আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি কি না, সেটি ভাবতে হবে।’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতিরা অংশ নেন।
উপাচার্য বলেন, ‘২০২৬ সালে যদি আমাদের বেকারত্বের হার ২০
শতাংশ হয়, আর আমরা যদি এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে ২০৩০ সালে গিয়ে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি বেকার তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় রাখার অর্থ কী? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম সংস্কার এবং কর্মমুখী শিক্ষা চালুর ওপর জোর দিতে হবে।’
শিক্ষার প্রচলিত ধারা নিয়ে প্রশ্ন রেখে উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কেবল তাত্ত্বিক পড়াশোনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের গতির সঙ্গে আমাদেরও তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শুধু তত্ত্বভিত্তিক শিক্ষাকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের দক্ষতা বাড়াতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিকুলাম ও সিলেবাস যুগোপযোগী করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।
আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমউদ্দীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত