শ্রেণিকক্ষে বসেই বিশ্বের অন্য প্রান্তের শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ নেওয়া, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদানের ধরন পরিবর্তন এবং রোবটের মাধ্যমে ঘরের কাজে সহায়তা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির এমন নানা সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের প্রদর্শনীতে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে স্মার্ট স্কুল, আধুনিক বাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির নমুনা উপস্থাপন করা হয়।
প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্মার্ট স্কুলের মডেল। এতে দেখানো হয়, টাঙ্গাইল বা রাজশাহীর মতো দূরবর্তী এলাকায় থেকেও শিক্ষার্থীরা বড় পর্দার মাধ্যমে বিশ্বের অন্য প্রান্তের শিক্ষকের ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। এআই শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও শেখার ধরন অনুযায়ী পাঠদানে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আধুনিক বাড়ির মডেলে তুলে ধরা হয় দৈনন্দিন জীবনে এআই ও রোবটের ব্যবহার। ‘স্মার্ট কানেকশন হাউস’ নামের এ প্রদর্শনীতে ঘরের বিভিন্ন কাজে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার নমুনা দেখানো হয়।
জ্বালানি খাতের প্রদর্শনীতে ছিল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের প্রযুক্তি। হুয়াওয়ের প্রদর্শনীতে ইনভার্টার এবং লিথিয়াম ব্যাটারির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়।
ডিজিটাল সংযোগ থেকে শিল্পে এআই
প্রযুক্তির প্রদর্শনীর পাশাপাশি সম্মেলনে শিল্প ও সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ও পণ্য পরিবহনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন আলোচকেরা।
তাঁদের মতে, এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, মানসম্মত তথ্য এবং সহায়ক নীতিমালা প্রয়োজন।
সম্মেলনে ‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচকেরা বলেন, ডিজিটাল সংযোগের সাফল্য শুধু ইন্টারনেটের আওতা দিয়ে পরিমাপ করা যথেষ্ট নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি কতটা সুফল বয়ে আনছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্যানেল আলোচনাগুলো সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ-উল-বারী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তৈয়বুর রহমান। আলোচনায় টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বীমা ও সরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পাঁচ বছরে ১০ লাখ ডিজিটাল কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে উচ্চগতির, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও নজর দিতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নীতিমালাটি সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।
সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে ডিজিটাল অবকাঠামো, এআইয়ের ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত