ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ভালো অবস্থানে থেকেও বড় সংগ্রহ গড়তে না পারার জন্য নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তাঁর মতে, প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের আরও অনেক বেশি রান করা উচিত ছিল।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে। কিন্তু দিনের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ৫৯ রানের মধ্যে বাকি সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফলে ২৭২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় চাপে ফেলার সুযোগ হাতছাড়া করে দলটি।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান মনে করেন, দ্বিতীয় দিনের সকালে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানো বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। বিশেষ করে লিটন দাসের সঙ্গে গড়ে ওঠা জুটির পর আরও কিছুক্ষণ উইকেটে থাকতে পারলে দলের সংগ্রহ বাড়ানো সম্ভব হতো।
দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের সাদমান বলেন, “আমি যদি আরেকটু বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারতাম কিংবা ইনিংসটা আরও বড় করতে পারতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। সম্ভবত সেখানেই আমরা ভুল করেছি।”
টপ অর্ডারকে বড় ইনিংস খেলার তাগিদ
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটারদের ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এই ওপেনার। তাঁর মতে, দলের শীর্ষ সারির ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারলে সংগ্রহ ৪৫০ থেকে ৫০০ রানেও পৌঁছাতে পারত।
সাদমান বলেন, “আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা যদি ১৫০, ১৭০ কিংবা ২০০ রান করতে পারতেন, তাহলে হয়তো দলের সংগ্রহ ৪৫০ কিংবা ৫০০ রানে পৌঁছাত।”
তবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের জন্য মিরপুরের উইকেটকে দায়ী করেননি তিনি। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেদের ব্যাটারদের ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন সাদমান।
নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, উইকেট কিংবা কন্ডিশন নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে প্রতিটি বলের মেধা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষায়, “বল এলে আমি সেটি খেলার চেষ্টা করি। সব সময় এটাই আমার পরিকল্পনা।”
মিরপুরে দিনের শুরুতে এবং শেষ দিকে ব্যাটারদের প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেঞ্চুরির পেছনে পরিশ্রম ও পরামর্শ
দীর্ঘদিন ধরে ভালো শুরু করেও ইনিংসকে তিন অঙ্কে নিতে না পারার পর সাদমানের এই সেঞ্চুরি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নিজের ইনিংস বড় করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে তিনি নিয়মিত ভাবতেন বলে জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস ও ব্যাটিং কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন এই ওপেনার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ আশরাফুল ও কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের পরামর্শও নিয়েছেন তিনি।
সাদমান বলেন, “একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কেন আউট হয়ে যাচ্ছি, তা নিয়ে সব সময় ভাবতাম। সম্প্রতি এ নিয়ে অনেক কাজ করেছি।”
তাইজুল-মিরাজের বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ২৭২ রানে অলআউট হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নেমে সাবলীল শুরু করে। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল সফরকারীরা। তবে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। ফলে ম্যাচের লড়াই এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
তাইজুল ও মিরাজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে সাদমান বলেন, “তারা সত্যিই ভালো বোলিং করেছেন। তাদের বোলিংয়েই আমরা আবার ম্যাচে ফিরতে পেরেছি।”
আগামী দিনের খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ব্যাটারদের দ্রুত আউট করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। একই সঙ্গে সফরকারীদের লিড যতটা সম্ভব সীমিত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সাদমান।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত