পাবনার ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুরে কয়েক দিনের অসময়ের ঝড়বৃষ্টিতে মাঠে মাঠে কাঁচা-পাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে। কোথাও ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে, আবার কোথাও শীষে এখনো দানা পুরোপুরি পুষ্ট হয়নি। এমন সময়ে ঝড়বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
ক্ষেতে জমে থাকা পানি দ্রুত না সরলে নুয়ে পড়া ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের নুয়ে পড়া ধান বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও লালপুর এলাকায় ১১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন আকাশ মেঘলা থাকার পর আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈশ্বরদীর মুলাডুলি গ্রামের কৃষক মুরাদ আলী মালিথা বলেন, প্রায় পাকা ধানের শীষসহ গাছগুলো জমিতে জমে থাকা পানির মধ্যে শুয়ে পড়েছে। ১০ থেকে ১৫ দিন পর ধান কাটার সময় বিঘাপ্রতি চার থেকে পাঁচ মণ ফলন কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক তানজিরুল আলম মিটো বলেন, তাঁর মতো এলাকার শত শত কৃষকের রোপা আমন ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাঘইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, এমনিতেই ধান চাষ করে কৃষকদের তেমন লাভ হয় না। তার ওপর পাকার শেষ সময়ে ঝড়বৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, এ বছর রোপা আমনের ফলন বেশ ভালো হয়েছিল। বিশেষ করে ব্রি-১০৩ জাতের ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে অসময়ের ঝড়বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় পাঁচ মণ ফলন কম হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
নাটোরের লালপুরে গত তিন দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অন্তত ১৫০ হেক্টর জমির আমন ধান নুয়ে পড়েছে। মাঠে পাকা ও আধা পাকা ধানগাছ মাটিতে পড়ে রয়েছে। জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
আর এক সপ্তাহ পরই লালপুরের মাঠে আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকেরা।
উপজেলার রাকসা গ্রামের কৃষক আবুল কালাম এবার তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ধানের অবস্থা ভালো ছিল। সপ্তাহখানেক পরই কাটা শুরু করা যেত। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রায় ১০ কাঠা জমির ধান হেলে পড়েছে। ক্ষেতে হাঁটুপানি জমে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে হেলে পড়া ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
একই এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, এখনো আবহাওয়া পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। দ্রুত জমির পানি না সরলে তাঁকেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপজেলায় ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ২১৫ টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, উপজেলায় এখনো ধান কাটা শুরু হয়নি। এর মধ্যে বুধবার থেকে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ১৫০ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেলে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি নাও হতে পারে। তবে জমির পানি দ্রুত না সরলে কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ কারণে নুয়ে পড়া ধান বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত