হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবারের এ হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, ইরানের একটি হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
আল জাজিরা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দ্বীপটিতে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে মার্কিন এক কর্মকর্তা ইরানের দুটি আরকিউ-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে। পরে এবিসি নিউজকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁদের একজন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি উড়োজাহাজে ইরানের হামলার জবাবে সোমবার এ অভিযান চালানো হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলো সীমিত পরিসরে চালানো হয়েছে। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের কয়েকটি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ থেকে আইআরজিসি একটি মার্কিন উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ নেশনকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে রাডার শনাক্তকরণব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়নি, যাতে এগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা না হয়।
গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। এ ধরনের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আগে যেসব পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, সেগুলোকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সোমবারের হামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, আইআরজিসি একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পর হরমুজ প্রণালির আকাশে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর আগে আইআরজিসির হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় কেন্দ্রগুলোতে কোনো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবিসি নিউজ। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত