যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন গার্ডিয়ানের আমেরিকাবিষয়ক কলাম লেখক মোইরা ডনিগান। তাঁর মতে, ভোটারদের অসন্তোষের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ডনিগান লিখেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের অবস্থান এতটাই নাজুক মনে হচ্ছিল যে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতুক করে বলা হচ্ছিল—ফলাফল হয় ট্রাম্প যুগের অবসান ঘটাবে, নয়তো জনমত জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের প্রত্যাশা ছিল। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মিশ্র ফল পেলেও নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে ডনিগানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটাররা দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে, নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা জনসমক্ষে তুলে ধরতে এবং কংগ্রেসের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের বিচারক নিয়োগের পথও আটকে দিতে পারবে তারা।
ডনিগান মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া হতে পারে দ্বিমুখী। একদিকে তিনি ফলাফলকে ডেমোক্র্যাট ও অবৈধ অভিবাসীদের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করতে পারেন, অন্যদিকে ফলাফল মেনে নিয়েও পরাজয়ের দায় অন্যদের ওপর চাপাতে পারেন।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে আলাস্কার মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সিনেট আসনগুলোর ফল চ্যালেঞ্জ করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকের মতে, আপাতত সেই পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন বলে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’কে জানিয়েছেন বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন
ডনিগানের মতে, ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করার ১০ বছর পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসানের ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বিশ্লেষণে, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম কয়েক মাসে ট্রাম্প সরকারের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন মনে হচ্ছিল, সাংস্কৃতিক অসন্তোষ ও বৈষম্যবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্তৃত্ববাদী শাসন পাকাপোক্ত করতে পারবেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফেডারেল আমলাতন্ত্রে ব্যাপক ছাঁটাই করেন এবং বিভিন্ন পদে নিজের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেন। বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও তাঁর প্রশাসনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ধরেছেন লেখক।
ডনিগানের ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। তাঁর শক্তি ছিল নিজের সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব এবং বিরোধীদের দুর্বলতা। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অসন্তোষে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষণে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের পুনর্নির্বাচনকে ব্যাপক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের চেয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও অন্যান্য বস্তুগত পরিস্থিতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ডনিগান।
তাঁর মতে, একই অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বেকারত্ব এবং দৃশ্যমান বৈষম্য ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
ডনিগান আরও লিখেছেন, ট্রাম্পের উত্তরসূরি হতে আগ্রহী তরুণ ও উচ্চাভিলাষী রিপাবলিকান নেতারা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষায় তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। এতে ট্রাম্প তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখিয়ে নিজের সমর্থকদের একত্র করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে নির্বাচনের পর সেই প্রচেষ্টার শক্তি কমে যেতে পারে বলে মনে করেন লেখক।
নিবন্ধের শেষাংশে ডনিগান বলেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির বড় ভিত্তি ছিল রিপাবলিকান তৃণমূলের ওপর তাঁর প্রভাব এবং ভোটারদের তাঁকে অনুসরণ করানোর ক্ষমতা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান যদি সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হয়, তাহলে ভোটাররা আর আগের মতো ট্রাম্পের পিছু হাঁটছেন না।
লেখক: মোইরা ডনিগান, দ্য গার্ডিয়ানের আমেরিকাবিষয়ক কলাম লেখক
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান; সংক্ষেপিত ভাষান্তর: ইফতেখারুল ইসলাম
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত