শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজে ধীরগতি, অপরিকল্পিত খনন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও নদ দখলের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় নগরীর কাচারীঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক ব্যয়ে একটি খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ থেকে কাপাসিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা থাকলেও সাত বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বক্তারা বলেন, সারা বছর নদে নাব্যতা বজায় রাখা, যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়নই ছিল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। শুষ্ক মৌসুমে নদে ১০ ফুট গভীরতা ও ৩০০ ফুট প্রশস্ততা ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ খননের পরও পানির প্রবাহ বাড়েনি, বরং দিন দিন নদ পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাহলে প্রকল্পের পরিকল্পিত সুফল কোথায়—এ প্রশ্নও তোলেন বক্তারা।
তাঁরা আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র এ অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনজীবিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নদটি রক্ষা করতে হলে অপরিকল্পিত খনন বন্ধ করে বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। বক্তাদের অভিযোগ, খননের নামে নদকে আরও সংকুচিত করা হচ্ছে। খনন করা বালু নদীর পাড়ে ফেলে রাখায় বিভিন্ন স্থানে নতুন করে দখলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে একসময়ের প্রবহমান ব্রহ্মপুত্র ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীপাড়ের মানুষ ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় একটি চক্র অবৈধ বালু বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার পরিবর্তনের পরও এ চক্রের কার্যক্রম থামেনি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে ব্রহ্মপুত্রের বিপর্যয় ঠেকানো কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
নদ দখলের চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন স্থানে নানা অজুহাতে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্রহ্মপুত্র দখল করা হচ্ছে। কখনো নাগরিক সুবিধা, কখনো পুনর্বাসন, আবার কখনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা বা শিক্ষার প্রসারের নামে নদীর জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। বক্তাদের দাবি, নদে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে দখল হওয়া সব জায়গা উদ্ধার করতে হবে।
সমাবেশ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা, সব ধরনের দখল উচ্ছেদ এবং পরিকল্পিতভাবে খনন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে খনন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান বক্তারা।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহমুখ্য সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ, মো. কামরুজ্জামান সাজ, মো. আসকর আলী, নাজমুল হাসান রাজু খান, মো. আনোয়ার হোসেন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সজীব আকন্দ, আবু সাইফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, মো. আনোয়ারুল হক ও মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
উপজেলা পরিষদ মার্কেট, (২য় তলা) রুম নং-২৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত